পুরানো দিনের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে গ্রামে আবার অষ্টক গান

By এপ্রিল ১৮, ২০১৯ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০ ইতিহাস ও ঐতিহ্য

কৃষক সমাজের নিজের গান হয়ে চৈত্র মাসজুড়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায় অষ্টকের দল । লোকনৃত্যগীত অষ্টক বা অষ্টগান । কেবল গান নয় গানের সাথে চলে নাচ । একই সাথে অনেক পালায় থাকে অভিনয় । এজন্য লোকনাট্যের পরিচয় আছে অষ্টকের চেহারায়। অনেক দলে যারা নাচে তারা গান করে না। পাশে বসে কয়েকজন গান ধরে । একসময় দেশের প্রায় সবখানে অষ্টকের চল ছিল, বিশেষ করে চড়ক পূজার সময় । বসন্তকালীন উৎসব, চৈত্র সংক্রান্তির বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে বসতো আসর । অষ্টক কেবল গান নয় শিক্ষার অংশ । অষ্টাদশ শতকের অন্যতম মান্য কবি ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর ছিলেন কৃষ্ণনগর রাজসভার সভাকবি । যাঁর জন্ম ১৭১০ সালে। মৃত্যুর বছর ১৭৮২ । ভরতচন্দ্র রচিত অষ্টক নাগাষ্টক ও গঙ্গাষ্টক খুব জনপ্রিয় হয়েছিল । অষ্টকের পালাগুলি খুব একটা বড় হয় না । ছোট ছোট গানের মধ্য দিয়ে কাহিনি তুলে ধরা হয়। কথা ও সুরে ভরপুর বৈচিত্র । দীর্ঘ টানা সুরে ভাটিয়ালি ও কীর্তনের প্রভাব চোখে পড়ার মত । সম্ভবত বসন্তকালীন উৎসব বলে অষ্টকের সুর বাঁধা হয়েছে পঞ্চমে । কেউ কেউ কৃষ্ণলীলা কীর্তনের সাথে মিলিয়ে ফেলেন। না কোন মিল নেই । কৃষ্ণলীলা বা গৌরলীলা ধর্মের গান। অষ্টকে বলা হয় হলো লোকায়ত জীবনের কথা বলে ।

আগে নাকি গ্রামে শীত অসলেই পালা গান, কবিগান , সারিগান এ গুলো লেগেই থ্কতো । বিংশ শতাব্দির শুরু থেকে এলাকা উন্নত হতে শুরু করে কাজের সন্ধানে মানুষ এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমাতে থাকে অর তখন থেকেই ভাটা পড়ে গ্রাম এ সংস্কৃতীতে বিলুপ্ত হতে থাকে পালা গাল,যাত্রা, অষ্টক গানের মত অনুষ্ঠান গুলো । এলাকার হারানো এ সংস্কৃতীকে ফিরিয়ে আনতে ও তাকে নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এগারোখানের হাতিয়াড়া গ্রামে গ্রামবাসির সহযোগীতায় অয়োজন করা হয় অষ্টক গানের । “রাজা হরিশচন্দ্র” নামের এ পালায় অভিনয় করেন গ্রামের লোকেরাই।
পালা শুরুর আগে প্রবীর পাঠকের ক্যামেরায় পালার অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা ।

Leave a Reply