দূর্গা পূজাতে গ্রামে ফিরলো হাজার বছরের পুরানো সারিগান

By অক্টোবর ৮, ২০১৯ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০ ইতিহাস ও ঐতিহ্য

মধ্যযুগের কবি বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণে প্রথম সারি গানের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে সঙ্গীতের সমার্থক শব্দ রূপে ‘সারি’ শব্দটির ব্যবহার হয়েছে। পরবর্তীতে মোগল বাদশাহদের নৌ বাহিনীর দ্বারা নৌকা বাইচের গোড়াপত্তন হলে এর ব্যাপক প্রসার ও প্রচার ঘটে। পরবর্তীতে শ্রমজীবীদের মধ্যে যেমন, কৃষকদের ফসল কাটা, ফসল তোলা, ক্ষেত নিড়ানো, হাল চাষ বা হাল বাওয়া ও ফসল ঘরে তোলার পরিশ্রম লাঘবের জন্য এ লোকগানের প্রচলন দেখা যায়। তাছাড়া পরিশ্রম নির্ভর কাজ যেমন, গাছ কাটা, ইমারত ভাঙ্গা ইত্যাদি কাজে এর প্রচলন লক্ষ করা যায়। আবহমান বাংলার এ লোকসঙ্গীতটি এখন শ্রমিকদের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলার মানুষের চিত্তবিনোদন ও প্রতিযোগিতামূলক খেলার উপাদানে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে সবাই চিত্তবিনোদনের অংশ হিসাবে বাংলা ব্যান্ড, হিন্দি ও ইংরেজি রক গান গুলাগোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে তাই লোকজ সংগীত এ সারিগান কে বাঁচিয়ে রাখতে ও তা সকলের কাছে পৌছে দিতে শারদীয় দূর্গোৎসব-২০১৯ উপলক্ষে বাকড়ী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর পুকুরে সারি গানের অয়োজন করা হয় । সারিগানে গান ও নৃত্য পরিবেশন করনে গ্রাম শিল্পীরা । নৌকায় করে স্কুলের পুকুরের চারিপাশ দিয়ে তারা গান পরিবেশন করে বেড়ান । এতোদিন পর গ্রামে সারি গানের কথা শুনে গান দেখতে পুকুরের চারপাশে ভিড় জমায় বাচ্চা বুড়ো সকল বয়সের মানুষ । এমন অভিনব কায়দায় সারিগান দেখে উপস্থিত সকলে অনেক খুশি ও উৎফুল্ল বোধ করেন । চৈতী বিশ্বাসের ক্যামেরায় সারি গানের কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো ।

Leave a Reply