সম্মাননা স্মারক পেলেন ‘বাবু সন্তোষ কুমার মজুমদার’

তেভাগা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হলে সে সময়ের ভূমি ব্যবস্থা বিষয়ে জানা প্রয়োজন। বাংলার গ্রামীণ সমাজে বৃটিশ শাসনের আগ পর্যন্ত ভূমির মালিক ছিলেন চাষিরা। মোগল আমল পর্যন্ত তারা এক তৃতীয়াংশ বা কখনো কখনো তার চেয়েও কম ফসল খাজনা হিসাবে জমিদার বা স্থানীয় শাসনকর্তার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে প্রদান করতেন। বৃটিশ শাসনামলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা প্রচলনের ফলে চাষিদের জমির মালিকানা চলে যায় জমিদারদের হাতে। জমিদাররা জমির পরিমাণ ও উর্বরতা অনুযায়ী বৃটিশদের খাজনা দিত। এ সময় জমিদার ও কৃষকদের মাঝখানে জোতদার নামে মধ্যস্বত্বভোগী এক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। এরা পত্তনি প্রথার মাধ্যমে জমিদারদের কাছ থেকে জমি পত্তন বা ইজারা নিত। এই জোতদার শ্রেণি কৃষকের জমি চাষ তদারকি ও খাজনা আদায়ের কাজ করতো। ফসল উত্‍পাদনের সম্পূর্ণ খরচ কৃষকেরা বহন করলেও যেহেতু তারা জমির মালিক নন সে অপরাধে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তুলে দিতে হতো জোতদারদের হাতে। এ ব্যবস্থাকে বলা হতো ‘আধিয়ারী’। জোতদারি ও জমিদারি প্রথা ক্ষুদ্র কৃষকদের শোষণের সুযোগ করে দেয়। খাজনা আদায়ের জন্য জোতদাররা এদেরকে দাসের মতো ব্যবহার করে। উৎপন্ন ফসলের পরিবর্তে একসময় কৃষককে বাধ্য করা হয় অর্থ দিয়ে খাজনা পরিশোধ করতে। ফলে কৃষকেরা গ্রামীণ মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। সর্বস্বান্ত হয়ে এক সময়ের সমৃদ্ধ বাংলার কৃষক পরিণত হন আধিয়ার আর ক্ষেত মজুরে। জমিদার-জোতদারদের এই শোষণ কৃষকের মনে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। ১৯৪০ সালে ফজলুল হক মন্ত্রিসভার উদ্যোগে বাংলার ভূমি ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব দেয় ‘ফ্লাউড কমিশন’। আর ১৯৪৬ এর দিক তেঁভাগা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এগারোখানে তেভাগা অন্দোলন কমরেড অমল সেনের হাত ধরে অসলেও তার সাথে ছিলো গ্রামরে দামাল ছেলেরা ছিলেন এগারোখানের ‘বাবু সন্তোষ কুমার মজুমদার’ ও । মানুষের ন্যায্য অধিকার অদায়ের জন্য তারা হাতে হাত ধরে লড়ে গেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। লড়েছেন জমিদার আর পাক বাহিনীর বিরুদ্ধেও। বাবু সন্তোষ কুমার মজুমদার তেভাগা অন্দোলনের এক মহান ও সক্রিয় নেতা তিনি এলাকার গর্ব। ঐতিহাসিক তেঁভাগা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণের জন্য এগারোখানের এই ত্যাগী নেতা ও গোবরা পার্বতী বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন সফল প্রধান শিক্ষক ‘বাবু সন্তোষ কুমার মজুমদার’-কে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি’ কর্তৃক সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।  গতো ২৩ নভেম্বর খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটরিয়ামে “বঙ্গবন্ধু-দর্শন ও মানব উন্নয়ন” শিরনামে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি কতৃক আয়োজিত আঞ্চলিক সেমিনারে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলোন অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত (সভাপতি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি)এছাড়াও সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জনাব মো: আমজাদ হোসেন খান (মহাব্যবস্থাপক বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলানা) । শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি উপস্থিত হতে না পারায়, তার সহধর্মিনী বাকড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষিকা মিসেস কনা মজুমদারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সেমিনারের প্রধান অতিথি অধ্যাপাক ড. আবুল বারকাত। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কাছে আমারা অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তার কাজকে মুল্যায়ন করে তাকে সম্মাননা জানানোর জন্য। এগারোখানের এই গুনী ব্যাক্তিত্ব ও তার পরিবারের প্রতি ই ডি এফ এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

Leave a Reply