গ্রামে ফিরলো ঐতিহ্যবাহী যাত্রা

যাত্রা ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় লোকনাট্য ধারা । এগুলি প্রধানত চারঘণ্টাব্যাপী বিপুল আয়োজনের বিনোদন । উচ্চ শব্দ ও চড়া আলোর ব্যবহার এবং দৈত্যাকার মঞ্চে নাটকীয় উপস্থাপনা যাত্রার বৈশিষ্ট্য । অতিনাটকীয় ভাবভঙ্গি ও আবৃত্তির মাধ্যমে প্রায়ই যাত্রার উপস্থাপনা করা হয়ে থাকে । বাঙালি জাতির হাজার বছরের শিল্প-ভাবনার পথ-পরিক্রমায় অযুত চিত্রকল্প হয়ে আজও টিকে আছে যাত্রা । বাঙালির বিনোদনের একটি প্রধান অনুষঙ্গ ছিল যাত্রাপালা । এর মধ্য দিয়ে শুধু বিনোদন নয় পুরাণ, ইতিহাস, লোকজ সাহিত্য সম্পর্কে শিক্ষাগ্রহণ চলত । এখন সিনেমা, টেলিভিশনের কল্যাণে বিনোদনের রূপ পাল্টেছে । কিন্তু যাত্রার আবেদন গ্রামের মানুষের কাছে এখনও রয়েছে । রাতের পর রাত জেগে যাত্রার কাহিনি, অভিনয়, গানের মাধ্যমে লোকজ নীতিবোধ, শুভ-অশুভের দ্বন্দ্ব সম্পর্কে শিক্ষা নেয় দর্শকরা । । যাত্রা আমাদের লোকজ সংস্কৃতির মূল্যবান সম্পদ । রাতের পর রাত জেগে বাংলার সাধারণ মানুষ কৃষক, তাঁতি, কামার, কুমার, জেলে দেখেছে যাত্রায় কাহিনি আর মেতেছে পালাগানের সুরে। কখনও ভক্তি, কখনও ভালোবাসা, কখনও দেশপ্রেম তাকে কাঁদিয়েছে, হাসিয়েছে ।

এই লোকজ শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে ও তাকে সামনের প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এগারোখানের হাতিয়াড়া গ্রামে বাবু বিধান গোস্বামীর নতুন বাড়িতে গত ১৬ নভেম্বর  অয়োজন করা হয় এক যাত্রাপালার । যাত্রার নাম ছিলো  “আমরাও মানুষ” । হাতিয়াড়া গ্রামের মানুষ অনেক আগে থেকেই যাত্রা, পালাগান, সারিগানের আয়োজন করতো কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষ হয়েছে আধুনিক আর পাল্টে গেছে তাদের দিনোদন এর মাধ্যম । পুরানো সেই দিনের কথা মাথায় রেখে গ্রামবাসির সহযোগীতায় এ আয়োজন । অনেক অনেক বছর পরে যেহেতু যাত্রা তাই এগারোখানের প্রায় সকল গ্রামথেকেই লোক সমাগম ঘটে হাতিয়াড়াতে বাবু বিধান গোস্বামীর বাড়ির উঠানে । সেখানে এক উৎসব মুখর পরিবেশ ও মেলার সৃষ্টি হয়ে যায় । যাত্রায় অভিনয় শিল্পীরা গ্রামেরই মানুষ ছিলেন বাইরের কেউ নয় কিন্তু তারা তাদের অসামান্য প্রতিভা ও অভিনয় কৌশল দিয়ে যাত্রায় এক আলাদা মাত্রা যুক্ত করেছিলেন । এগারোখানের হাতিয়াড়া থেকে লিটনরুদ্র সরকারের ক্যামেরায় যাত্রার কিছু খন্ডচিত্র তুলে ধরা হলো ।

Leave a Reply